মহান আল্লাহ পাক মহিলাদের মধ্যে কাউকেই নবী-রসূল আলাইহাস সালাম হিসেবে যমীনে পাঠাননি। আল্লাহ পাক উনার এই হেকমতের বিষয়টা সীমিত আক্বল ও সমঝ সম্পন্ন মানুষের বোধের বাইরে। তবে মহিলাদের মধ্যে কোন নবী-রসূল আলাইহিস সালাম না পাঠালেও নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালামগন উনারা মহিলা উনাদের মাধ্যম দিয়েই জমিনে তাশরিফ এনেছেন। এছাড়া আল্লাহ পাক উনার উদ্দিষ্ট ব্যবস্থায় অগণিত মহিলা আওলাদে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- উনাদেরকেও যমীনে পাঠিয়েছেন। পাঠিয়েছেন অনেক মহিলা ওলীআল্লাহ, শীর্ষ মাক্বামের হাদীগণ। যাঁদের বেমেছাল বুযুর্গী, মান, শান, মাক্বাম এবং দ্বীনী কাজের আঞ্জাম, হিদায়েত ও নছীহতে জিন-ইনসান কামিয়াবী লাভ করেছে এবং কুল কায়িনাত ধন্য হয়েছে। লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হিসেবে উনাদের আগমনের এ ধারা ক্বিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

দীর্ঘকাল ধরে তথাকথিত মুসলিম প্রগতিবাদী ও বুদ্ধিজীবীরা নারী মুক্তি ও সমাজের সকল স্তরে নারী-পুরুষ সম-অধিকার প্রদানের অজুহাতে আন্দোলনের পাঁয়তারা করছে। কুরআন শরীফ ও সুন্নাহ শরীফ-এর বিরোধিতায় বিজাতীয় কৃষ্টি-কালচারে অভ্যস্ত করে মুসলিম নারীদেরকে বেপর্দা করার জন্যই মূলতঃ তাদের এ কারসাজি। নারীদের বেপর্দা করে ইসলামের সার্বিক ক্ষতিসাধনে ইহুদী, নাছারা ও মুশরিকদের নীল-নকশা বাস্তবায়নের কূটচালে ধর্মব্যবসায়ী ও তথাকথিত এই প্রগতিবাদিরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে যোগান দিয়ে যাচ্ছে।

এমন বিরূপ অবস্থা থেকে উম্মাহকে পরিত্রাণদানের মহান লক্ষ্যে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম- পঞ্চদশ হিজরী শতকে যমীনে পাঠিয়েছেন উনাদেরই আখাছছুল খাছ লক্ষ্যস্থল, বেমেছাল মর্যাদা ও মরতবা সম্পন্না একজন সুমহান মহিলা ওলীআল্লাহ। তিনি হলেন সাইয়্যিদাতু নিসায়িল আলামীন, ইমামুছ ছিদ্দীক্বাত, বাহরুল উলূম, নূরে মদীনা, গুলে মুবীনা, উম্মুল খইর, আফদ্বালুন নিসা, ফক্বীহাতুন নিসা, ত্বাহিরাতুন নিসা, হামীদাতুন নিসা, মাজীদাতুন নিসা, রাহনুমায়ে দ্বীন, আত্বায়ে রসূল, ওলীয়ে মাদারজাদ, ছিদ্দীক্বায়ে কুবরা, ক্বায়িম মাক্বামে উম্মাহাতুল মু’মিনীন, হাবীবাতুল্লাহ, হাদীয়ে যামান, আওলাদে রসূল, উম্মুল উমাম সাইয়্যিদাতুনা হযরত আম্মা হুযূর ক্বিবলা আলাইহাস সালাম।